বাংলা উচ্চারণের নিয়ম pdf [এসএসসি বাংলা ব্যাকরণ]

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম pdf [এসএসসি বাংলা ব্যাকরণ]


আসসালামুয়ালাইকুম সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা আশাকরি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছ। আজকে আমি তোমাদের সাথে শেয়ার করবো বাংলা উচ্চারণের নিয়ম। আশাকরি তোমাদের সবার অনেক উপকারে আসবে। চলো শুরু করা যাক।


বাংলা উচ্চারণের নিয়ম



বাংলা উচ্চারণের নিয়ম 

ভাষা মানুষের সামাজিক জীবনের ভাবপ্রকাশের একমাত্র বাহন। তার মৌলিক গঠন উপাদান হলো অর্থবোধক ধ্বনি। - ধ্বনি একটি বাচনিক প্রক্রিয়া—যা শ্রবণীয়। মানুষের মুখে তা উচ্চারিত হয় এবং অপরের কানে তা অর্থবহ হয়ে প্রবেশ করে। ভাষার এই অর্থবহতা বা বোধগম্যতার ক্ষেত্রে উচ্চারণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক কালে সংবাদ ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, সংগীত, আবৃত্তি, নাট্যকলা ইত্যাদি উপস্থাপনা শিল্পে ( performing art) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয় হচ্ছে। এর ফলে ভাষার উচ্চারণের দিকটি ক্রমেই অধিকতর গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে গণমাধ্যম শিক্ষা ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা ভাষা বা মান্য চলিত বাংলার উচ্চারণকেই প্রমিত উচ্চারণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সঠিক বা স্ট্যান্ডার্ড বা মান্য উচ্চারণ বলতে আমরা কী বুঝি—এ-বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন ।



উচ্চারণরীতি : শব্দের যথাযথ উচ্চারণের জন্য নিয়ম বা সূত্রের সমষ্টিকে উচ্চারণরীতি বলে। 


বিশুদ্ধ উচ্চারণের প্রয়োজন : উচ্চারণের শুদ্ধতা রক্ষিত না হলে ভাষার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়। ভাষার অর্থবহতা বা বোধগম্যতার ক্ষেত্রে উচ্চারণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শুদ্ধ উচ্চারণ একদিকে যেমন ঠিকভাবে মনোভাব প্রকাশে সহায়ক, তেমনি শব্দের অর্থবিভ্রান্তি ও বিকৃতি ঘটার সম্ভাবনা থেকেও মুক্ত রাখে। তাই বিশুদ্ধ উচ্চারণের প্রয়োজন অপরিসীম। বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে :


১. প্রমিত কথ্য ভাষার বাচনভঙ্গি অনুসরণ করা, অর্থাৎ চলিত ও আঞ্চলিক ভাষার পার্থক্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ব্যবহার করা।


২. স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির যথাযথ উচ্চারণ সম্পর্কে অবহিত হওয়া। অর্থাৎ ঠিক উচ্চারণস্থান থেকেই ধ্বনিগুলোকে উচ্চারণ করতে হবে।


৩. উচ্চারণ-সূত্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা।


৪. আঞ্চলিকতা পরিহার করা।


৫. প্রতিনিয়ত অনুশীলন বা চর্চা করা। যদি বানান বা উচ্চারণ সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই অভিধান দেখতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।



(আদ্য-অ)


১. শব্দের আদিতে যদি 'অ' থাকে এবং তারপরে 'ই’-কার, 'উ'-কার থাকে তবে সে-অ-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’-কারের মতো হয়। যথা: অভিধান (ওভিধান), অভিযান (ওভিজান্), অতি (ওতি), মতি (মোতি), অতীত (ওতিত্), অধীন (ওধিন্) ইত্যাদি।


২. শব্দের আদ্য 'অ'-এর পরে 'J' (য) -ফলাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে সেক্ষেত্রে 'অ'-এর উচ্চারণ প্রায়শ ও’-কারের মতো হয়। যেমন : অদ্য (ওদো), অন্য (ওননো), অত্যাচার (ওত্তাচার্), কন্যা (কোনা), বন্যা (বোন্না) ইত্যাদি।


৩. শব্দের আদ্য 'অ'-এর পর 'ক্ষ', 'জ্ঞ' থাকলে, সে 'অ'-এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়ে থাকে। যথা : অক্ষ (শুক্‌খো), দক্ষ (দোখো), যক্ষ (জোক্‌ খো), লক্ষণ (লোকখোন্ ), যজ্ঞ ( জোগ্‌গোঁ), লক্ষ (লোকখো), রক্ষা (রোক্খা) ইত্যাদি।


৪, শব্দের প্রথমে যদি 'অ' থাকে এবং তারপর, (ঋ) -কার' যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলেও, সে- 'অ'-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’-কারের মতো হয়। যথা : মসৃণ (মোসুন্), বক্তৃতা (বোক্‌তৃতা), যকৃৎ (জোকৃত্) ইত্যাদি।


৫। শব্দের প্রথমে ‘অ' যুক্ত 'র' (এ)-ফলা থাকলে সেক্ষেত্রেও আদ্য অ-এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কার হয়ে থাকে। যথা : ক্রম (ক্লোম্‌), গ্রহ (গ্রোহো), গ্রন্থ (গোথো), ব্রত (ব্রোতো) ইত্যাদি।


(মধ্য-অ)


১. শব্দমধ্যের 'অ' আদ্য 'অ'-এর মতোই ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ-কার এবং ক্ষ, জ্ঞ, য-ফলার আগে থাকলে সে অ- এর উচ্চারণ সাধারণত ও-কারের মতো হয়। যেমন- কাকলি (কাকোলি), সুমতি ( শুমোতি) ইত্যাদি।


২. তিন বা তার অধিক বর্ণে গঠিত শব্দের মধ্যে অ-এর আগে যদি অ, আ, এ এবং ও-কার থাকে তবে মধ্যের ‘অ’ ও-কার রূপে উচ্চারিত হয়ে থাকে। যেমন— মতন (মতোন্), যতন (জতোন), সাগর (সাগোর্) ইত্যাদি।


৩. বাংলা ভাষায় বেশ কিছু সমাসবদ্ধ তৎসম শব্দে 'অ' ও-কার রূপে উচ্চারিত হয়। যেমন- পথচারী (পথোচারি), বনবাসী (বনোবাশি), রণতূর্য (রনোতুরূজো) ইত্যাদি।


৪. মধ্য অ-এর আগে ‘আ’ থাকলে সেই অ ও রূপে উচ্চারিত হয়। যেমন—ভাষণ (ভাশোন), আসল (আশোল)।


৫. মধ্য অ-এর আগে 'এ' থাকলে 'অ' ও-বৎ উচ্চারিত হয়। যেমন— বেতন (বেতোন্), কেতন (কেতোন্)।


(অন্ত্য-অ)


১. বাংলা ভাষায় বেশ কিছু বিশেষণে অথবা বিশেষণরূপে ব্যবহৃত পদের অন্তিম “অ’ লুপ্ত না হয়ে ও-কারান্ত উচ্চারণ হয়ে থাকে। যথা : কাল (বিশেষণ 'কালো' কিন্তু, বিশেষ্য কাল্), খাট (খাটো কিন্তু বিশেষ্য খাট্), ছোট (ছোটো), বড় (বড়ো) ইত্যাদি।


২. বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বেশ কিছু দ্বিরুক্ত শব্দ বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হলে প্রায়শ অন্তিম 'অ' ও-কারান্ত উচ্চারণ হয়। যথা : কাঁদ-কাঁদ (কাঁদো-কাঁদো), কল-কল (কলো-কলো), পড়-পড় (পড়ো পড়ো), বড়-বড় (বড়ো- বড়ো) ইত্যাদি।


৩. ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যাবাচক শব্দের শেষ-‘অ' রক্ষিত এবং ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়ে থাকে। যথা: (১১) এগারো (অ্যাগারো), (১২) বারো (বারো), (১৩) তেরো (ত্যারো), (১৪) চোদ্দো (চোদদো) ইত্যাদি।


৪. “আন' (আনো)-প্রত্যয়ান্ত শব্দের অন্তিম ‘অ' ‘ও’-কারান্ত উচ্চারিত হয়। যথা : করান (করানো), বলান (বলানো), শেখান (শেখানো), লেখান (লেখানো), পাঠান (পাঠানো), খেলান (খ্যালানো), চালান (চালানো), সরান (শরানো), ভরান (ভরানো) ইত্যাদি।


৫. ‘ত’ (ক্ত) এবং ‘ইত' প্রত্যয়যোগে সাধিত বা গঠিত বিশেষণ শব্দের অন্ত্য 'অ' উচ্চারণে ও-কারান্ত হয়ে থাকে। যেমন : গত (গতো), নত (নতো), রত (রতো) ইত্যাদি।


(ব-ফলা)


১. আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে 'ব'-ফলা সংযুক্ত হলে সাধারণত সে ব-ফলার কোনো উচ্চারণ হয় না। যথা স্বাধিকার (শাধিকার্), স্বদেশ (শদেশ), জ্বালা (জালা), ত্বক (তক্), শ্বাপদ (শাপদ্) ইত্যাদি)।


২. শব্দের মধ্যে কিংবা শেষে ব’-ফলা থাকলে সংযুক্ত বর্ণের উচ্চারণ-দ্বিত্ব ঘটে থাকে। যথা : দ্বিত্ব (দিতো), বিশ্ব (বিশৃশো), বিশ্বাস (বিশাশ), বিদ্বান (বিদ্‌দান), পক্ক (পক্‌কো) ইত্যাদি।


৩. উৎ (উদ্), উপসর্গযোগে গঠিত শব্দের 'ৎ' (দ্)-এর সঙ্গে 'ব'-ফলার 'ব' বাংলা উচ্চারণে সাধারণত অবিকৃত থাকে। যথা : উদ্বেগ (উদ্‌বেগ), উদ্বোধন (উদবোধন), উদ্বেলিত (উদ্‌বেলিতো), উদ্বিগ্ন (উদ্‌বিনো) ইত্যাদি।


৪. বাংলা শব্দে ক্ থেকে সন্ধির সূত্রে আগত-‘গ’-এর সঙ্গে 'ব’-ফলা যুক্ত হলে সেক্ষেত্রে 'ব'-এর উচ্চারণ প্রায়শ অক্ষত থাকে। যথা : দিগ্বিদিক (দিগ্‌ বিদিক্), দিগ্বলয় (দিগ্‌বলয়), দিগ্বিজয় (দিগ্‌বিজয়), ঋগ্বেদ (রিগবেদ) ইত্যাদি।


৫. এছাড়া ‘ব’-এর সঙ্গে এবং ‘ম’- এর সঙ্গে ‘ব’-ফলা যুক্ত হলে, সে 'ব'-এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যথা : ব-এর সঙ্গে : বাব্বা (রাব্বা), সব্বাই (শব্বাই), শাব্বাশ (শাবাশ্), তিব্বত (তিব্বত্‌), নব্বই (নোব্‌বাই) ইত্যাদি।


(ম-ফলা)


১. পদের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ম’-ফলা সংযুক্ত হলে সাধারণত তার কোনো উচ্চারণ হয় না, তবে প্রমিত উচ্চারণে ‘ম’-ফলাযুক্ত বর্ণটির উচ্চারণ সামান্য নাসিক্য-প্রভাবিত হয়ে ওঠে। যথা: স্মরণ (শঁরোন্), শ্মশান (শঁশান), স্মৃতি (স্মৃতি), স্মারক (শারোক্) ইত্যাদি।


২. পদের মধ্যে বা অন্তে 'ম’-ফলা সংযুক্ত বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়ে থাকে। যথা: ছদ্ম (ছদ্‌দো), পদ্ম (পদো), আত্ম (আতেঁাঁ), অকস্মাৎ (অকোশাত্), ভস্ম (ভ শোঁ), রশ্মি (রোশি), মহাত্মা (মহাত্তা), আকস্মিক (আকোশিক্) ইত্যাদি।


৩. কিন্তু বাংলা ভাষায় পদের মধ্যে কিংবা অন্তে সর্বত্র ‘ম’-ফলা যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না; গ, ঙ, ট, ণ, ম এবং ল-এর সঙ্গে সংযুক্ত 'ম'-এর উচ্চারণ সাধারণত অবিকৃত থাকে। যথা : বাগ্মী (বাগ্‌মি), যুগ্ম (জুগ্‌মো), বাঙ্ময় (বাঙ্ময়), উন্মাদ (উন্‌মাদ), জন্ম (জমো), সম্মান (শম্‌মান), গুল্ম (গুলমো) ইত্যাদি।


৪. যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত ম-ফলার কোনো উচ্চারণ হয় না। যথা : সূক্ষ্ম (শুকখোঁ), লক্ষ্মী (লোক্‌খি), লক্ষ্মণ (লক্‌খোন্) ইত্যাদি।


৫. এছাড়া বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত 'ম'-ফলাযুক্ত কতিপয় সংস্কৃত শব্দ আছে (কৃতঋণ শব্দ) যার বানান ও উচ্চারণ সংস্কৃত রীতি অনুযায়ী হয়। যথা : কুষ্মাণ্ড (কুশ্যাডো), স্মিত (স্মিতো), সুস্মিতা (শুসমিতা) ইত্যাদি।


'য'( ্য) - ফলা


১. 'J' (য)-ফলা সর্বত্র অন্য বর্ণের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় এ-ফলাটি কখনো সংস্কৃতের মতো 'ইঅ' উচ্চারণ গ্রহণ করে না। তবে আদ্য বর্ণে 'T' (য)-ফলা যুক্ত হলে বর্ণটির উচ্চারণে সামান্য শ্বাসাঘাত পড়ে এবং বর্ণটি 'অ'-কারান্ত বা 'আ'-কারান্ত হলে প্রায়শ তার উচ্চারণ 'অ্যা'-কারান্ত হয়ে থাকে। যথা : ব্যক্ত (ব্যাকতো), ব্যর্থ (ব্যারথো), ব্যগ্র (ব্যাগগ্রো), ব্যবস্থা (ব্যাবোস্থা), ন্যস্ত (ন্যাতো), ব্যস্ত (ব্যাতো), ব্যথা (ব্যাথা), ব্যবসায় (ব্যাবোশায়), ব্যপদেশ (ব্যাপোদেশ), ব্যবধান (ব্যাবোধান), ত্যক্ত (ত্যাক্‌তা), ব্যাঙ (ব্যাঙ্), ব্যাকরণ (ব্যাকরোন্), খ্যাত (খ্যাতো), ব্যাঘাত (ব্যাঘাত্), ব্যাঘ্র (ব্যাঘ্রো), ব্যাধ (ব্যাধ), শ্যামল (শ্যামল/ শ্যামোল), ন্যায় (ন্যায়), ন্যায্য (ন্যাজজো), ধ্যান (ধ্যান) ইত্যাদি।


কিন্তু পদের আদ্য (‘অ' কারান্ত) বর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত '' (য) -ফলার পরে যদি ই (f) -কার (হষ বা দীর্ঘ) থাকে তবে সে-ক্ষেত্রে তার উচ্চারণ সাধারণত অ্যা-কার না হয়ে এ (C)-কারান্ত হয়। যথা : ব্যথিত (বেথিতো), ব্যতীত (বেতিতো), ত্যজিয়া (তেজিয়া), ব্যক্তি (বেকৃতি), ব্যতিক্রম (বেতিক্রোম), ব্যতিব্যস্ত (বেতি ব্যাতো) ইত্যাদি।


২. পদের মধ্য কিংবা অন্তে যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ' (য) ফলা সংযুক্ত হলে সাধারণত তার কোনো উচ্চারণ থাকে না। যথা : সন্ধ্যা (শোধা, স্বাস্থ্য (শাখো), সন্ন্যাসী (শোননাশি), মর্ত্য (মতো), হর্মা (হরমো), কণ্ঠ্য (কঠো ইত্যাদি।


সংযুক্ত বর্ণে 'J' (য)-ফলা যুক্ত হলে তার যেমন উচ্চারণ হয় না, তেমনি তার পূর্ববর্তী অ-কারান্ত বর্ণগুলোকে হয়তো তেমন প্রভাবিত করে না, অর্থাৎ প্রায়শ 'ও-কারান্ত উচ্চারিত হচ্ছে না। (স্মর্তব্য : মর্ত্য, অর্ঘ্য, বন্ধ্যা, কণ্ঠা, অন্ত্য ইত্যাদি)।


৩. পদের মধ্য ও অন্ত্য বর্ণে '' (য-ফলা) সংযুক্ত হলে সে বর্ণটি দুবার উচ্চারিত হয় (বর্ণটি অল্পপ্রাণ হলে প্রথমটি হসন্ত, দ্বিতীয়বার ও-কারান্ত, আর মহাপ্রাণ হলে প্রথমটি তার অল্পপ্রাণ হসন্ত এবং দ্বিতীয়টি মহাপ্রাণ ও-কারান্ত)। যথা : অদ্য (ওদদো), মধ্য (মোদধো), ধন্য (ধোননো), শস্য (শো শো), সভ্য (শোভো), সত্য (শোতো), কন্যা, (কোনা), বন্যা (বোনা), শূন্য (শুননো), নব্য (নোবো), গদ্য (গোদো), পদ্য (পোদো), লভ্য (লোভো), সাধ্য (শাধো), বাধ্য (বাদধো), কল্যাণ (কোল্ল্যান -লান), পণ্য (পোনো), গণ্য (গোনো), তথ্য (তোঘো), কথ্য (কোথো) ইত্যাদি।


(র)-ফলা


২. পদের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে এ (র)-ফলা সংযুক্ত হলে ( এবং বর্ণটিতে অন্য স্বরবর্ণ যুক্ত না থাকলে) তার উচ্চারণ 'ও'-কারান্ত হয়ে থাকে, সে-বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না। যথা প্রকাশ (প্রোকাশ), প্রণাম (প্রোনাম্), গ্র (গ্রোথো), গ্রহ (গ্রোহো), প্রতিজ্ঞা (প্রোভিগ্‌গী), প্রজ্ঞা (প্রোগ্‌গী), ব্রত (ব্রোতো), ব্রুম (ক্লোস্‌), শ্রম (প্রোম্‌) ইত্যাদি। .


২. কিন্তু (র)-ফলা যদি পদের মধ্যে কিংবা অন্ত্য ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত হয় তবে সে-বর্ণটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়ে থাকে। যথা : বিদ্রোহ (বিদ্রোহো), যাত্রী (জাত্রি), রাত্রি (রাত্রি), ছাত্র (ছাত্রো), মাত্র (মাতৃত্রো), অভ্র (অভ্রো) ইত্যাদি।


তবে এখানে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, (র)-ফলা এবং ঋ-কার সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ শব্দের আদিতে অনেকটা এক রীতিতে (দ্বিত্বহীন) উচ্চারিত হলেও পদের মধ্যে এবং অন্তে এদের মধ্যে উচ্চারণ-পার্থক্য ঘটে থাকে। অর্থাৎ পদের মধ্য বা অন্ত্য (র)-ফলাযুক্ত বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণ বিধেয় হলেও (ঋ) যুক্ত বর্ণের দুবার উচ্চারণ সমীচীন নয় (কারণ এতে বহুক্ষেত্রে অর্থেরও বিপর্যয় ঘটে থাকে)। যথা বিক্রীত (বিক্রিতো যা বিক্রয় করা হয়েছে), বিকৃত - (বিকৃতো – রূপান্তরিত, বিরূপতাপ্রাপ্ত), নেতৃ (নেতৃ – পরিচালক, পথপ্রদর্শক), নেত্রী (নেত্রী - পরিচালিকা), - অভিনেতৃ (ওভিনেতৃ – অভিনয়কারী, অভিনেতা), অভিনেত্রী - (ওভিনেত্রি – অভিনয়কারিণী) ইত্যাদি।

ফলে (ঋ)-কার সংযুক্ত বর্ণের উচ্চারণে দ্বিত্ব হওয়া উচিত নয়। উদ্ধৃতশব্দগুলোর উচ্চারিত রূপ : আবৃত্তি (আবৃত্তি), প্রকৃত (প্রোকৃতো), স্বীকৃতি (শিকৃতি), অমৃত (অমৃতো), নিভৃত (নিভৃতো), ছায়াবৃতা (ছায়াবৃতা), মাতৃভাষা (মাতৃভাশা), আদৃত (আদৃতো), অদৃষ্ট (অদৃশটো), অদৃশ্য (অদৃশো), আকৃষ্ট (আকৃশ্টো) ইত্যাদি। তবে আধুনিক বাংলা উচ্চারণ অনেকেই স্বীকার করেন না। যেমন : মসৃণ (মোস্সৃন), অপসৃত (অপোসসূতো), আদৃত (আদৃতো) ইত্যাদি।


৩. সংযুক্ত বর্ণে, (র)-ফলা যুক্ত হলে তার উচ্চারণ বিলুপ্ত হয় না (যদিও সে বর্ণটির উচ্চারণদ্বিত্ব ঘটে না।। যথা: কম্প্র (কম্‌প্রো), অস্ত্র (অনূপ্রো), কৃষ্ণ (ছো), কেন্দ্র (কেন্‌দ্রা), পুরন্দ্রী (পুরোষ্ট্রি), যন্ত্র (জন্ত্রো), অস্ত্র (অসূত্রো), শস্ত্র (শসূত্রো) ইত্যাদি।


(ল-ফলা)


১. 'ল'-ফলা সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ প্রায়শ অবিকৃত থাকে এবং কোনো দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না। যথা : ক্লান্ত (ক্লানৃতো), মান (মান্), পুত (পুতো), প্লীহা ( প্লিহা), প্লাবন (প্লাবোন্), প্লব (প্লব), ক্লেশ (ক্লেশ) ইত্যাদি।


২. কিন্তু 'ল'-ফলা সংযুক্ত বর্ণটি যখন পদের মধ্যে বা অন্তে বসে তখন তার উচ্চারণে 'র'। এ-ফলার মতো দ্বিত্ব হয়। যথা: অক্লেশে (অক্লেশে), অম্লান (অম্লান)।


⇒ 'ল' যেহেতু দন্তমূলীয় (পার্শ্বিক অল্পপ্রাণ ঘোষ) ধ্বনি সেজন্য এর সঙ্গে সংযুক্ত 'শ'-এর উচ্চারণ দন্ত্য স বা ইংরেজি s-এর মতো হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেমন শুদ্ধ (স্লোথো / স্লথো), আত্মশ্লাঘা (আতোস্লাঘা), অশ্লীল (অস্লিল), শ্লেষ্মা (স্পেশী), শ্লেষ (ফ্লেশ) ইত্যাদি।



বাংলাদেশের সকল  বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যালোচনা করে নির্বাচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দের উচ্চারণ নিচে দেয়া হলোঃ


বাংলা উচ্চারণের নিয়ম

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম



বাংলা উচ্চারণের নিয়ম গুলো পড়ার জন্য তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।


1 Comments

Post a Comment

Previous Post Next Post